ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি
ধামইরহাট উপজেলায় ধুমছে শুরু হয়েছে আমন ধান রোপণের মৌসুম। গ্রাম বাংলার চিরচেনা দৃশ্যের মতো এখানেও মাঠজুড়ে দেখা যাচ্ছে কৃষকদের কর্ম ব্যস্ততা। বিভিন্ন গ্রামে এখন কৃষকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমন ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এই মৌসুমে আশানুরূপ বৃষ্টিপাতের ফলে আমন ধান রোপণের জন্য মাটি তৈরি হয়েছে বেশ ভালোভাবেই। সেই সাথে সেচের সু-ব্যবস্থাও রয়েছে, যা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মোট ২১ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ জমিতেই ইতোমধ্যে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলকোঠা গ্রামের স্থানীয় কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই বছর বৃষ্টিপাত ও সেচের ব্যবস্থা ভালো থাকায় আমন ধান রোপণে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। আমরা আশা করছি, এ মৌসুমে ফলন ভালো হবে এবং আমরা লাভবান হব। অন্যান্য কৃষকরাও একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
ধামইরহাট উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. তৌফিক আল জুবায়ের জানান, আমন ধান রোপণের জন্য কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ এবং সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ১১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট অর্জনের ৫৫ ভাগ। সঠিকভাবে চাষাবাদ ও রোগবালাই প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন সময় কৃষক-কৃষণীদের নিয়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা পরিচালনা করা হয়েছে কৃষি উপ-সহকারীগণ কৃষকদের কল্যাণে মাঠে দিনভর কাজ করে যাচ্ছে। আমন ধান চাষে প্রযুক্তির ব্যবহারের দিকেও নজর দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
আমন ধানের উৎপাদন ভালো হলে কৃষকদের আয় বাড়াবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ধান সরবরাহ করা হবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। ধামইরহাটের কৃষকরা আশাবাদী যে, এই বছর তারা আমন ধান থেকে ভালো উৎপাদন পাবেন এবং এটি তাদের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করবে। তবে, আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
